কবিতাঃ সুজান মিঠি

 নির্বাসন

আহঃ! চুপ করো! স্থির হও!

আমি শান্ত পৃথিবীর গন্ধ নিই

আমি সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখি

কঠিন হতে হতে দাউদাউ করে জ্বলতে জ্বলতে

ওর ফিকে হয়ে আসা শরীর…

আগুনে ডুব দিতে দিতে ওর সন্ধে নামা দেহ।

 

কী বলছো! আমি নির্বাসনে কেন?

আমি নির্বাসনে নই, আমি নিজে নিজের সনে।

হাসছো? ভাবছো কী করে সম্ভব?

 

দিনের পর দিন আমার বিছানায় সাঁতার কেটেছে

প্রেমহীন লীলা, মায়াহীন কায়া।

আমি সে বালিশে হৃদয় রাখতে গেলেই সে পিছলে গেছে! হারিয়ে গেছে!

খুঁজতে খুঁজতে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে!

আমার চোখ অন্ধ হয়ে গেছে!

আমি বন্ধ দরজাগুলো হাতড়ে বেড়িয়েছি

কোথায় তুমি? কোথায়?

সে তার কন্ঠে চাঁদের সুর নিয়ে খেলছিল তখন,

দূত এসে বলে গেল, পরকীয়া।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন?

আমারও তো আকাশ আছে, চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী আছে!

দূত ফিরে গেল। 

আমি ততক্ষণে মূক বধির।

 

একে নির্বাসন বোলো না তোমরা! চুপ করো!

শান্ত হও! 

আমার নাসিকা এখনো শ্বাস নেয়, গন্ধ নেয়।

ওই যে ছুটে আসছে সুখ, শোক 

আমি ওসবের গন্ধ খুব পাই! 

নিজের শরীরে বুলিয়ে নিই নিজের ছায়া।

কপালে হাত রাখি, স্নেহ রাখি, আদর, মায়া।

 

আহঃ! বড় গোল করো তোমরা!

এত অস্থির কেন? 

যেন এক বিরাট বিপর্যয়

যেন এক বিরাট হিংসে

না না এক বিরাট অবক্ষয়!

 

দূত! কী হেতু এসেছ আজ আমার কাছে?

না না তুমি আমায় শুনতে পাবে না

কিন্তু আমি তোমার সংবাদের গন্ধ পাব।

হ্যাঁ বলো, বলো কেন এসেছো তুমি এখানে

আমার কাছে?

তোমরা একটু চুপ করো! স্থির হও!

পোড়া গন্ধ এনেছে দূত আমার জন্য!

হ্যাঁ ওই তো সূর্য এখন মাঝ আকাশে,

গনগনে উত্তাপ। 

কী বললে, পরকীয়ায় ঝলসে গেছে সে বিছানা!

সে চাঁদ...

সেই বিছানায় সাঁতার কাটছে হত্যার রক্তস্রোত?

 

তোমরা চিৎকার করো! থেমো না!

সূর্য সন্ধেয় ডুবে যাওয়ার আগেই আমাকে

তার কাছে পৌঁছাতে হবে!

আমি ওই গনগনে সূর্যের দিকে তাকিয়ে

এখন নিজেকে ভস্মীভূত করবো

তোমরা চিৎকার করবে!

আমি তাকে খুঁজে বের করবো

তোমরা অস্থির হবে!

আমি তার ধোঁয়া ধোঁয়া রক্তস্রোত থেকে

আমার হৃদয় খুঁড়ে আনবো

তোমরা আমার জন্য প্রার্থনা করবে!

 

আমি তাকে নির্বাসনে পাঠাবো

নিজের সঙ্গে নিজের নির্বাসন।

তারপর আমি মিলিয়ে যাবো পাষাণে।

 

তোমরা আমার কথা দুটো তার দিকে ভাসিয়ে দিও চিৎকার করতে করতে...

এক টুকরো হৃদয় পেলে তা দিয়ে এক স্বর্গ 

রচিত হয়, আর তুমি একটা মায়া বাঁধতে পারলে না?

1 টি মন্তব্য:

  1. চমৎকার কবিতা। খুব সহজ সরল ভাষায় লেখা এই কবিতা হৃদয় স্পর্শ করে গেল। অভিনন্দন জানাই কবিকে।

    উত্তরমুছুন

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্...