আমাদের কথা

 



নির্মাণবিনির্মাণ

 

এ যেন ক্ষয় রোগ। বুকের ডান দিকে যার বাসা। আবার সেই ক্ষয়-কালেই বিনির্মাণ। ভাবনার নতুন পর্যায়ে উত্তরণ।

 

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছেউত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বিবেকনগরের বাসিন্দা দেবজ্যোতি সাহা এবং তাঁর বোন জ্যোতির্ময়ী ফুচকার দোকান খুলেছেন এই লক়ডাউন পর্বে। বিষয়টা দরিদ্র পরিবার থেকে আর্থিক উত্থান ঘটার পর মধ্যবিত্ত ধাপকে স্পর্শ করার মতো লড়াইয়ের কাহিনি নয়। বরং তার উল্টো। দেবজ্যোতি এবং জ্যোতির্ময়ী ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া হন। দেবজ্যোতি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরিরত। কিন্তু লকডাউনে তাঁর বেতনে কোপ পড়েছে। আর বড় চাকরি করার স্বপ্ন রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া জ্যোতির্ময়ীরও। কিন্তু সে সবের মধ্যেই সংসার চালাতে ভাইবোনে শুরু করেছেন ফুচকার দোকান। অর্থাৎ মধ্যবিত্ত অবস্থান থেকে সরাসরি শ্রমজীবী মানুষের অবস্থানে নেমে আসা।

 

এত কিছু থাকতে ফুচকার দোকান কেনদুই ভাই-বোনই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেনযা পুঁজি ছিল তাতে ফুচকার দোকান ছাড়া বড় কোনও বিনিয়োগ সম্ভব ছিল ননা। দু’জনেরই মতলকডাউন না কি তাঁদের মধ্যবিত্ত তকমা ঘুচিয়ে ‘নতুন’ করে ভাবতে শিখিয়েছে। ঠিক যেমনটা চেয়েছিল স্পার্টাকাস। একটা ব্যবস্থার ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে সাম্যবাদের একটা পর্যায় স্পর্শ করতে চেয়েছিল সে। প্রাণঘাতী লকডাউন পর্বে দেবজ্যোতি-জ্যোতির্ময়ীর চেতনার এই উত্তরণ আর যাই হোক ফুচকার ব্যবসায় লভ্যাংশের মাপকাঠিতে পরিমেয় নয়।


ছবিঃ বর্ষা মণ্ডল

২টি মন্তব্য:

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্...