শীতের বিকেল
আবার বিকেল নেমেছে তোমাদের পাড়ায়
তুমি ঘুরে বেড়াচ্ছ এক গলি থেকে অন্য গলি
তোমার নাকের উপর বসছে মাছি
তুমি তাড়িয়ে দিচ্ছ হাতনেড়ে
আবার বিকেল নেমেছে তোমাদের পাড়ায়
অনন্ত কাল ধরে বাচ্চারা চলেছে স্কুল ব্যাগ কাঁধে
খোলার চালা ফুঁড়ে ধোঁয়া উঠছে আকাশে
গলির মাথায় আলাপ সেরে নিচ্ছে রমা বৌদি
আবার বিকেল নেমেছে পাড়ায়
তোমার ভোকাট্টা হওয়া ঘড়ি কাগুজে নৌকার মতো
ভেসে চলেছে বড় নর্দমায়
ল্যাম্পপোস্টে জ্বলে উঠছে আলো
আর তোমরা ঢুকে পড়ছ জঠরের ভিতর
আত্মসমর্পণ
আবার দেখা হল আমাদের
অথচ ভরসন্ধ্যেবেলা দুটো পথ ধরেছি দুজনেই
খুচরো পয়সা ঝনঝনিয়ে হেঁটেছি বেশ
আমাদের জুতোর সুখতলাও ছিল বেশ পুরু
প্রাচ্যের তিন পন্ডিতের মতো ধকধকে তারা দেখে
হাঁটছিলাম আমরা
সম্রাট- কারাগার এসবের তোয়াক্কা ছিল না একেবারেই
অথচ আবার দেখা হল আমাদের
সারা শরীরে সান্ধ্য উনুনের ধোঁয়াটে গন্ধ
বরফ-ঢাকা মাছের মতো আমাদের সমর্পণ-বাদী চোখ
আশ্চর্য বাঁশিওলা গল্পেই থেকে গেল শুধু
যতই ঝকঝকে করে তুলি না কেন দিনগুলো আমাদের
এনামেলের বাসনের মতোই তোবড়ানো
স্বর্গের রথ
দিন বয়ে চলেছে জলের মতো
আমরা বসে আছি নদীর তীরে
নাহ! কোনো কোকিল ডেকে ওঠেনি
নিজের শবের জ্বলন্ত চিতা থেকে ওঠা
ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে আছি
স্বর্গের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছি আমরা
দিন ফেনিয়ে উঠছে থুতুর মতো
সকলে তাকিয়ে আছি ঘড়ির দিকে
নেমে আসছে রথ
ও অভাগীর মা চেয়ে দেখ
আর বেশি দূরে নয়
দিন বয়ে চলেছে ঘড়ির মতো
মারাংবুরুর থানে ঘুমিয়ে পড়ছে ঢোল ধমসা
আমরা তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে
স্বর্গের রথ নেমে এল বলে
ও অভাগীর মা
মুগ্ধ হয়ে গেলাম। চমৎকার লেখা। অনেক ধন্যবাদ কবিকে।
উত্তরমুছুন