ভ্রমণ: অর্ণব কর

 


শান্তিনিকেতনের সপ্তম আশ্চর্য!

'যে অরূপবীণা হৃদয় মাঝে রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে,' সেই ঝংকারের আবহে প্রকৃতির নিজস্ব দৃশ্যকাব্য হয়ে ওঠা শান্তিনিকেতনের এই জায়গাটির নাম 'প্রকৃতি ভবন'। সোনাঝুরির মায়া ক্যানভাসে ভ্যান গখের ছবির বর্ণময় ঐশ্বর্যে  বল্লভপুর ডাঙার সাঁওতালপল্লী লাগোয়া প্রকৃতির এই জাদুঘরে আসতে আপনাকে পেরোতে হবে 'খোয়াই বনের অন্য হাট', বাঁয়ে রয়ে যাবে ময়ুরাক্ষী সেচখাল। দেখতে পাবেন ওপারের চিরহরিৎ মৃগদাব, লালবাঁধের স্থির জলে নীল আকাশের স্নিগ্ধ রূপ, পরিযায়ী ডানার নিশঙ্ক ওড়াউড়ি... পার্থিব নিবিড়তার এমন মোহিনী হাতছানি আপনাকে চঞ্চল করে তুলবেই।

 উঁচু পদ থেকে অবসর নিয়ে  এই দম্পতি সুনীপা ও সুব্রত বসু খোয়াই চরিত্র বজায় রেখে কিছুটা সরকারি খাস জমি লিজ নেন।  নিছকই চোখ দিয়ে নয়, হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে প্রকৃতিকে নব নব রূপে  আবিষ্কারের চকিত চমক দিতে দিগন্তব্যাপ্ত খোয়াই আর কোপাইকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রকৃতি ভবনের পথচলা শুরু। সোনাঝুরি-শাল-পিয়াল-পলাশ-ফাগুনবউ-কৃষ্ণচূড়া আর বাগানবিলাসের প্রেক্ষাপটে, শুধুমাত্র সাঁওতালি সারল্যটুকুকে পুঁজি করে প্রায় দু'দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রকৃতি ভবনে আজ নানান গ্যালারি। ১৯৭৬ সালে এক সাঁওতাল বালকের কাছে কুমিরের মতো দেখতে একখণ্ড কাঠের টুকরো পেয়ে চমৎকৃত সুব্রতবাবু অনুপ্রাণিত হন এমন একটি প্রাকৃতিক সংগ্রহশালা তৈরি করতে। গ্রিক মাইথোলজি (Muse), অজয়ের বালিখুঁড়ে পাওয়া প্রত্নরত্ন, এমনকী, সুদূর দাক্ষিণাত্য থেকে আনা বেশ কিছু ফসিল আজ এখানে ঈশ্বরের মতোই মহিমান্বিত।

কলকাতার মীনমঙ্গল ঘাটে রয়েছে সুব্রত বসুর ভাস্কর্য 'মৎসউর্বশী'। রবীন্দ্রনাথের 'জীবন দেবতা' সুব্রতবাবুর এই শিল্পকর্মটির প্রেরণা। শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি ভবনের এই ভাস্কর্য-উদ্যান, মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটোরিয়া, শিল্পীদের জন্যে অতিথিশালা সব কিছু মিলিয়ে যেন এক অভিনব দৃশ্যকাব্যের জন্ম হয়েছে।

ছবিঃ ভ্রামণিক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  একটি   লড়াকু   পত্রিকা সম্পাদকমণ্ডলীঃ   অভিজিৎ   ঘোষ ,  অনির্বাণ সরকার ,  এয়োনিয়ান   অনির্বাণ ,  সুমিত পতি ,  মনোহর   হোসেন   মণ্ডল, চিরঞ্...