সাহস
কেন এত ভয় করো? কেন এতো কেঁপে ওঠো ত্রাসে?
এখনো অনেক গাছ জেগে আছে অগাধ ছায়ায়
ছড়ানো রয়েছে পথ, ইতস্তত বাঁকে।
স্মৃতি যদি তঞ্চকতা করে
পুরোনো টায়ার থেকে খুলে নেব দাগ
পাপ আর পুণ্যময় দিনে
ফিরে যাব ক্রমাগত ভ্রমণ ফুরলে।
যাওয়াকে কেউ তো যাওয়া বলে না কখনো
চৌকাঠ ডিঙিয়ে বলে, আসি।
হয়তো-বা খানিক বালি ওড়ে।
ধুলো চায় মুছে দিতে আমাদের অনার্য জীবন
তবু কেউ পেরেছে কি সমগ্রে নেভাতে?
কেন এত ভয় করো? কেন এত কেঁপে ওঠো ত্রাসে?
পাহাড়ি খাদের বাঁকে ঘুরে যায় বেলুচ-রমণী
দোপাট্টায় গেঁথে রেখে আশ্চর্য দুপুর।
লাল-কালো-সাদা চেরি ফুটে আছে দুরন্ত বাগানে
এখনো তো বাকি থেকে গেছে
এইসব ছোঁয়াছুঁয়ি বিজনে কোথাও!
কেন এত ভয় করো? কেন এত কেঁপে ওঠো ত্রাসে?
বলো-আছি, খুব খুব ভালো আছি
এমন সুন্দর-সর্বনাশে।
কেন যে আগুন দেখি এত
কেন যে আগুন দেখি এত!
নিরন্তর ভেসে ওঠে- খিদে নিয়ে মিছিল চলেছে
দেশগাঁও পার হয়ে ধুলো রাস্তা ধরে।
মিছিলের মুখগুলো ভাঙা, যেন-বা সুপ্রাচীন বিগ্রহ
দৈবতেজে কমে যাওয়া, ব্রাত্য ও আতুর।
অথচ, শপিংমল আদুরে বেড়াল হয়ে শুয়ে আছে খুব।
মানুষেরা যায়, আসে। দু-দণ্ড স্পর্শের টান অনুভব করে
ভিড়ে ও বিজনে।
তরুণ কবির লেখা ঝুঁকে থাকে অফুরান প্রেমে
এ-ও বেশ ভালো লাগে, যতদিন পারে এভাবেই
ভালোবাসা কুড়িয়ে বাঁচুক।
তাদের লেখার দেহে উড়ে-চলা প্রজাপতি, মথ
আনন্দের চিহ্নে আরও এঁকে দিক পৃথিবীর মাঙ্গলিক ম্যাপ...
তাহলে আগুন কেন? গাঢ়তর খিদে কেন উঠে আসে চোখে?
কোথাও কি অন্তরাল আছে?
সেখানে মানুষ আজও রুটির স্বপ্নে গুলি খেয়ে মরে
কফিরবাগানে?
এখনো নিগ্রো কিশোরী বুলেট অথবা দেহ-এরকম শর্তে
চেনে আজও যাপনের মানে?
হয়তো কিছুই নেই, কর্পোরেট মিডিয়ায় যেমন দেখায়
তারচেয়ে ধ্রুবসত্য কিছু নেই আর
তারচেয়ে ধ্রুবসত্য কিছু নেই আর!
তাহলে এমন দিনে, কেন যে আগুন দেখি এত!
বুকের ভেতর কেন হয়ে ওঠে নিঃশব্দ শ্মশান-
অসাধারণ কবিতা। পড়ে মন ভালো হয়ে যায়।
উত্তরমুছুন